Social Icons

Monday, 18 February 2013

বিতর্কিত শাহবাগ



আজ সমগ্র বাংলাদেশে যে গণজাগরণের জোয়ার বইছে তা দেখে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আবহাওয়াটা ভালোই বুঝতে পারছি। রাস্তা ঘাটে বের হলেই নানা মানুষের সমালোচনা শুনেই বুঝা যায় ১৯৭১ এ অনেক মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে না বুঝেই ভুল বুঝত। আর গুটিকয়েক ধর্মনুরাগি মানুষের বক্তব্য শুনলে পরিষ্কার ভাবেই বুঝা যায় ১৯৭১ এ রাজাকারদের ভূমিকা কেমন ছিল। কারণ এই সকল ধর্মের নামে সমালোচনাকারি মানুষের সমালোচনা শুনলে ইচ্ছে করে ঘুষি মেরে মুখ থেঁতলে দেই। তাছাড়া ফেসবুক ও অন্যান্য অনেক ব্লগারদের যুক্তি তর্কতো রয়েছে। প্রজন্ম চত্বরের একটাই কথা বাংলাদেশ আর প্রজন্ম চত্বরের বিরোধিতাদের একটাই হাতিয়ার, ধর্ম। এখানে আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রজন্ম চত্বরকে ঘিরে সাধারণ মানুষগুলাকে পাঁচ ভাগে ভাগ করবো। গণজাগরণের যোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, মিডিয়া, অতি সাধারণ মানুষ এবং ধর্মান্ধ কিছু মানুষ।

গণজাগরণের যোদ্ধাঃ এদের ব্যাপারে কিছুই বলার নাই। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে ঝাপিয়ে পড়েছে এবং তাদের সাহসের যোগানদান কীভাবে হয় তা আমরা আজ প্রজন্ম চত্বরের এই সমাবেশ থেকেই বুঝতে পারি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের খুশি হওয়া উচিত এই ভেবে যে, যে দেশে এমন নির্ভীক যোদ্ধা আছে সে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা চিন্তা না করলেও চলবে।

রাজনীতিবিদঃ এখনকার অবস্থায় রাজনীতিবিদরা খুব চাপের মুখে আছে। কেউ প্রজন্ম চত্বরকে নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে, কেউ কেউ করছে, কেউ কেউ কি করলে তাদের দলের জন্য ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে সে চিন্তা করছে আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ফল ভোগ করার জন্য আবোল তাবোল বলে মানুষের হাসির পাত্র হচ্ছে। তবে এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে আওয়ামীলীগ এ সমাবেশের ভালো একটা সুফল পাচ্ছে। কারণ এখন সরকারের শেষ বছর এবং বিগত চার বছরের সকল ব্যর্থতা এই গণজাগরণের কারণে ধামাচাপা খাচ্ছে। আর তাছাড়া প্রজন্ম চত্বরের সকল দাবি-ই আওয়ামীলীগের অনুকূলে হওয়াতে , একটা কথা বলতে বাধ্যই হচ্ছি এ সময়টা আওয়ামীলীগের জন্য স্বর্ণ যুগ যাচ্ছে। বিএনপি এখন খুবি চাপের মুখে আছে এবং তার একমাত্র কারণ জামায়তে ইসলামি। তাদের রাজনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো না হওয়ায় এ দলটি জামায়তে ইসলামির লেজ ছাড়তে পারছে না। আর শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের দাবি সমূহ জামায়তে ইসলামির বিরুদ্ধে হওয়ায় বিএনপি প্রথমে কি করবে কি না করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। তবে আমার একটা কথা, এ সকল রাজনীতিবিদরা কি বুঝে না মানুষ আজ কতটা সচেতন? তাদের কথা বার্তা শুনলে মনে হয় তাদেরকে একটা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নামানো হইছে, আর এ প্রতিযোগিতায় কে কার বিরুদ্ধে কত বেশি উল্টা পাল্টা কথা বলে মানুষকে কত বেশি হাসাতে পারবে সে জয়ী হবে! তাদের এই সনাতন পদ্ধতির রাজনীতি কবে যে বন্ধ হবে !

মিডিয়া এবং অতি সাধারণ মানুষঃ এই প্রজন্ম চত্বর কে নিয়ে মিডিয়াগুলো এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। যা ৭১ এর যোদ্ধারা খুব একটা পায় নাই। এ জন্য মিডিয়ার কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিডিয়াগুলার একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। এখন টেলিভিশন চালু করলেই একটাই পর্দা ভেসে উঠে আর তা হল শাহবাগ। আমাদের দেশে অতি সাধারণ মানুষের সংখ্যাই কিন্তু বেশি। এবং এ সকল অতি সাধারণ মানুষ যদি টিভির পর্দায় প্রতিদিন দেখে, আপনি এই প্রজন্ম চত্বরে কেন আসছেন? আপনি শাহবাগে কি দাবি নিয়ে আসছেন? আপনি কখন আসছেন? আপনি কখন যাবেন? এই টাইপের প্রশ্নগুলো যদি প্রতিনিয়ত দেখতে থাকে তাহলে তো মানুষ এটাকে একটা লোক দেখানো সমাবশি ভাববে। এবং এর ফলে নতুনদের এই গণজাগরণের ভাবমূর্তি অতিসাধারণ মানুষের নিকট কিছুটা হলেও ক্ষীণ হবেই। আমার জানা মতে সমগ্র বাংলাদেশেই গণজাগরণ হচ্ছে। আপনারা সমগ্র বাংলাদেশের এই গণজাগরণটাকে শাহবাগের সাথে সাথে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরতে পারেন। কারণ অতি সাধারণ মানুষ এত কিছু বিশধ ভাবে চিন্তা করে না। তারা সামনে যা দেখে তাই বাস্তবতা মনে করে। কেন হইছে, কি কারণে হইছে তাদের এসব ভাবার সময় নাই।

ধর্মান্ধ কিছু মানুষঃ বাংলাদেশে বেশির মানুষ একটা ব্যাপারে সব সময়ই একটু বেশি স্পর্শকাতর। আর তা হল ধর্ম। মানুষের এই ধর্মান্ধতার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থপর মানুষ নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে আসছে। এবং আমি মনে করি আজকে তারা তাদের উদ্দেশ্য সফলতার সাথে সম্পূর্ণ করে আসছে। তা না হলে আজ যুদ্ধঅপরাধী নিয়ে যে এত বড় গণজাগরণ, তাতে বিরোধিতা করার সাহস পায় কোথা থেকে। ধর্মান্ধ মানুষগুলোর অজ্ঞতার কারণেই আজ শাহবাগের গণজাগরণ। আমরা নিজ দেশে থেকে এ দেশের স্বাধীনতার বিরোধীদের বিচারের দাবি করতে হচ্ছে দেশ স্বাধীনের ৪২ বছর পর। রাজনীতিবিদদের কথা আলাদা, কারণ তারা তাদের নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু যে সকল মানুষ আজ ধর্মের দোহাই দিয়ে, যুক্তি তর্কের মাধ্যমে এ সকল রাজাকারদের সাফাই গাচ্ছে তারা কি একটুও ভেবে দেখে না যে, ৭১ এ এসকল রাজাকারা এই ধর্মের দোহাই দিয়ে যুক্তি তর্কের মাধ্যমে মানুষকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বুঝাতো। এ সকল ধর্মীয় তর্কবাজরা কি একবারেও চিন্তা করে না যে, তারাও ১৯৭১ এর রাজাকারদের ভূমিকা আজ ২০১৩ সালে পালন করতাছে। এ সকল ধর্মীয় যুক্তিবাজদের যুক্তি শুনলে বা পড়লে আমি নিশ্চিত যে কোন বাঙালি তাদের সামনাসামনি পেলে নিজেকে সামলাতে পারবে না। আমি ফেসবুকে এমনও মানুষের স্ট্যাটাস পড়ছি, যাতে বলা হচ্ছে হে আল্লাহ আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও (...............রাজাকার............) এর জীবন তুমি রক্ষা কর আমরা যেন একটা গৃহ যুদ্ধের মধ্যে অবস্থান করছি। আর এ সকল কিছুর মূলে রয়েছে বাংলাদেশের স্বার্থপরায়ণ রাজনীতিবিদরা। আমি কি বুঝাইছি আসলে সকলেই তা বুঝতে পেরেছেন।

আজ এ সকল ধর্মান্ধ মানুষ এবং অতি সাধারণ মানুষের জন্য শাহবাগ বিতর্কিত একটা স্থান। শাহবাগের আন্দোলন সফল হোক । মানুষ ধর্মান্ধ হয়ে যাতে নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব না হারায় সে ব্যাপারে আমাদের সবসময় তৎপর থাকতে হবে। আর সাথে এও প্রতিহত করতে হবে, এ প্রজন্মের রাজাকাররা যাতে আমদের দেশের অতি সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে আজকের এই শাহবাগকে বিতর্কিত করতে না পারে।

Thursday, 14 February 2013

প্রজন্ম চত্বর নিয়ে একটি মন্তব্য


কিছু ছাগু প্রশ্ন এবং কেরামতি জবাবঃ

১. ইসসস...এভাবে যদি সাগর-রুনী হত্যা,পদ্মা ব্রিজ, শেয়ার কেলেঙ্কারী বিচার চাওয়ার জন্য সমাবেশ করা হতো।

না করছে কিডা?? প্রজন্ম চত্তর বাদেও তো আরো চত্তর আছে ওইখানে যাইয়া এগুলোর দাবীতে সমাবেশ করেন। আমরা আপাতত রাজাকারদের ফাসী নিয়ে ব্যস্ত কেননা তারা বুইড়া হয়ে গেছে মারা গেলে আর বিচার হবেনা। এই দাবী আদায় হইলে পরে যোগাযোগ কইরেন।
...

২. সব নাস্তিকদের চক্রান্ত। শাহবাগে সব নাস্তিকেরাই এই গনজাগরন পরিচালনা করছে।

তা নাস্তিকেরা নামায পড়ে এই প্রথম দেখলাম মনে হয়!! একটু কষ্ট করে ফজরের নামাযের ওয়াক্তে এখানে আইসেন। বর্তমানে শাহবাগে সবচেয়ে বড় ফজরের নামাযের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

৩. সবাই ফ্রি খাবার,পানি খাওয়ার জন্য শাহবাগে যায়। আর খাবার সাপ্লাই দেয় সরকারী দল আর নাস্তিকেরা।

এইখানে একটা কাহিনী বলি। গত পরশু রাত ১২টায় শাহবাগ থেকে বাসায় যাচ্ছিলাম। যাওয়ার সময় পাউরুটি কেনার জন্য এলাকার পরিচিত দোকানে গেলাম। দেখলাম দোকানদার দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন। আমি কইলাম ব্যাপার কি?

সে বললো সারাদিন দোকান চালায় দেখে শাহবাগ যেতে পারেনা। এখন দোকান বন্ধ করে যাচ্ছে। তার পাশে ৫টা বড় বড় কার্টন। কার্টনে করে সে বিস্কুট,পাউরুটি নিয়ে যাচ্ছে সেখানে আন্দোলন করা সবার জন্য। আশা করি বুঝতে পারতেছেন খাবার কিভাবে আসে এখানে?

৪. শাহবাগে ছেলেমেয়েরা একসাথে বেহায়ার মত নাচানাচি করে, সেখানে দলাদলি হয়।

ওই ফকিন্নির পোলা! জীবনে মা-বোন ছাড়া কয়টা মেয়ের সাথে কথা কইসস?? মেয়ে দেখলেই তো তোদের ক্যাড়া উঠে। রাস্তায় ভাই-বোন পাশাপাশি হাটলেও সেট দেখে তোদের নুনু খাড়ায় যায়। একবার এখানে আইসা দেইখা যা কি হয়। তারপর পকপক করিস। তোগর মেন্টালিটিই তো গোলকৃমির চেয়েও নিকৃষ্ট!

~কুবের

কৃতজ্ঞতা- Voice of 71 - ৭১ এর কন্ঠ

Tuesday, 12 February 2013

ফাঁসির দাবিতে একাত্ম কাদের মোল্লার নাতিও

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি নিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন তাঁর নাতি মনির হোসেন। একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি তাঁর নানা কাদের মোল্লার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন।
গত রবিবার রাতে সংবাদমাধ্যমটিকে মনির হোসেন বলেন, '৭১-এ কাদের মোল্লা যে জঘন্যতম কাণ্ড ঘটিয়েছে, তাতে তার ফাঁসি হওয়াই উচিত। এখন তার একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। যেকোনোভাবেই হোক মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।'
কাদের মোল্লাকে 'নানা' বলে সম্বোধন করতে ঘৃণা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'নিজের মাঝে চরম ঘৃণা কাজ করে তাকে নানা বলে ডাকতে। এমন মানুষকে রাজাকার বলেই ডাকতে হয়। তাকে হায়েনা আর জানোয়ার বলতেও আমার কোনো আপত্তি নেই।'
তিনি আরো বলেন, 'শুধু কাদের মোল্লা নয়, '৭১-এ তার সহযোগী সব যুদ্ধাপরাধীরই ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো উচিত। গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদী ও মুজাহিদের ফাঁসিও দ্রুত দেওয়া হোক। তাদের ফাঁসিতে ঝুলাতে না পারলে এ দেশ কখনোই কলঙ্কমুক্ত হবে না। এ সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধাপরাধীদের সঠিক বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করা।'

আন্দোলনে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে মনির হোসেন বলেন, 'গত পাঁচ দিন আন্দোলনে আছি। খেয়ে না খেয়ে স্লোগান আর ফাঁসির দাবি তুলে যাচ্ছি। তাদের ফাঁসির রায় না হওয়া পর্যন্ত এ মাঠ ছেড়ে যাব না।'
মনির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কবি নজরুল সরকারি কলেজে ভূগোলের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর একজন সদস্য। মনির কাদের মোল্লার চাচাতো নাতি।
সূত্র : বাংলামেইল অনলাইন।

Friday, 21 December 2012

যৌনতার প্রারম্ভিক কথা

যৌনতা বাঙ্গালির সংস্কৃতিতে একটি গোপনীয় বিষয়। সাধারণ সমবয়সী, সমলিঙ্গভুক্ত ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ পরিচিতিদের ছাড়া কারো সঙ্গে তা আলোচিত হয় না। এই সংস্কৃতিতে এমন কোন দিকনির্দেশনা নেই যার সাহায্যে কেউ পরিণত যৌবন, আকাঙ্ক্ষা এবং যৌনাচরন হতে উদ্ভুত সমস্যাবলীর মোকাবেলা করতে পারে। বাস্তব অভিজ্ঞতায় সে অনুভূতি সঞ্চয় করে কিছুটা পিতামহ বা পিতামহীর সহায়তায়, কিছুটা বাড়ন্ত বয়সে সঙ্গীদের সহায়তায়, আর কিছুটা চোখকান মেলে যা দেখতে পায় তা থেকে। বাংলাদেশে শিশু বা তরুণ বয়সীরা তাদের পিতামাতার সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্ণ দূরত্ব রেখে চলে যে, তাদের কাছে থেকে যৌন বিষয়ক কোন শিক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। এরূপ অভাব অবশ্য পূরণ করে দেয় রক্ত সম্পর্ক বা পাতানো কোন কোন আত্মীয়। তারা হাস্য-পরিহাসচ্ছলে আনুষ্ঠানিকভাবে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। পিতামাতা এ ধরনের আলোচনা থেকে বিরত থেকে ব্যাপারটির স্পর্শকাতরতা, তাৎপর্য এবং এ সম্পর্কে নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব আরপ করে থাকেন।
প্রাচীন ভারতবর্ষের সাহিত্যে জীবনচক্রে আশ্রম ধর্মের ভাবধারা প্রতিফলিত হয়। কার কার ধাপে অবস্থান তার ওপর নির্ভর করে তার আচরণবিধি ও ধর্ম, অর্থাৎ যথাযথ কর্ম। অন্যান্য অধিকাংশ কৃষক সমাজের মত বাংলাদেশেও জীবনের স্বীকৃত ধাপসমূহ যৌন আচরণ ও প্রজননসম্পর্কিত প্রত্যাশার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আরও বৈশিষ্ট এই যে, পুরুষের ও নারীর প্রত্যাশিত আচরণ অত্যন্ত বিপরীতমুখী। ছোটবেলা থেকেই তাদেরকে সমাজের লিঙ্গ ভিত্তিক ভূমিকা পালন করার জন্য এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, তা স্বভাবতই ভিন্ন হয়ে পড়ে। প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থাবলীতে বর্ণিত আশ্রম কাঠামোতে বিন্যস্ত জীবনসোপন মূলত শুধু পুরুষের জন্যই একটি তাত্ত্বিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে বিবেচিত হতো।
আশ্রমের প্রথম ধাপ, ব্রাহ্মাচার হচ্ছে কোন বালকের শিক্ষার প্রারম্ভকাল । আধুনিক ভারতীয় ভাষাসমূহে ব্রাহ্মাচার বলতে সংযম বোঝায়। শিশুর চিরাচরিত শিক্ষাব্যবস্থায় জীবনের কোন আনন্দ বা ভোগসুখের অবকাশ ছিল না, কারণ এগুলি ছিল কাম (প্রেম ও সৌন্দর্যতত্ত্ব ) বৈশিষ্টমূলক এবং আশ্রমের পরবর্তী ধাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট । আশ্রমের দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে গার্হস্থ, অর্থাৎ সাংসারিক দায়িত্ব পালনের স্তররূপে বিবাহ এবং বৈষয়িক বিষয়াদি এর অন্তর্ভুক্ত। গার্হস্থ পর্যায়ে কাম- এর ভূমিকা ব্যাপক। আশ্রমের তৃতীয় ধাপ বাণপ্রস্থ বাণপ্রস্থ হচ্ছে বৈষয়িক বিষয়াদি হতে অবসর গ্রহণ। এ পর্যায়ে যৌনক্রিয়া কিংবা প্রজনন সঙ্গত বিবেচিত হয় না। বাংলাদেশে পরিণত বয়সে সংযম প্রত্যাশিত, সাবালকত্বের তারুণ্যে যৌনতার প্রাচুর্য গ্রহণযোগ্য এবং নারীপুরুষ উভয় ক্ষেত্রে মধ্যবয়সে যৌনক্রিয়া, এমনকি অনাচার ও প্রত্তাশিত। সাবালক পর্যায়ে কামেচ্ছা প্রশমিত রাখতে হলেও, কামবাসনার গুরুত্ব স্বীকৃত।

মেধার কুদৃষ্টিঃ সম্পূর্ণ

 
 
আমি এখানে শ্রেণী বৈষম্যের কথা বলছি না। আমি বলছি মেধা বৈষম্যের কথা। আমি মেধা বৈষম্যটাকে আরো বিস্তারিত আলোচনার জন্য ছাত্রছাত্রীদের ৩ ভাগে ভাগ করব। প্রথম ভাগে আমি রাখবো যারা সারাক্ষণ পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং নিজেদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে কে কার চাইতে কত ভাল ফলাফল করতে পারবে। দ্বিতীয় ভাগে আমি রাখবো যারা পড়ালেখায় তেমন একটা মনযোগী না এবং সবশেষে তৃতীয় ভাগ। যাদেরকে আমি বলবো তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রছাত্রী, এরা মোটামুটি টাইপের পড়ালেখা করে এবং ফলাফলের দিক থেকে প্রথম ভাগের ছাত্রছাত্রীদের রাজত্ব মেনে নেয়। এবং তারা সবসময় মনে করে তাদের দ্বারা যা করছে তাই সম্ভব আর ভাল করা যাবে না। এই হল ৩ ধরণের ছাত্রছাত্রী। এবার আসুন এদের মাঝে বৈষম্যটা কোথায় তা দেখি।
 
বৈষম্যটা হল এই ৩ ভাগের ছাত্রছাত্রীদের প্রতি শিক্ষকদের দৃষ্টিকোণ। আমাদের শিক্ষকরা এই তিন ধরণের ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তিন ধরণের আচরণ করেন। প্রথম শ্রেণীর প্রতি তাদের আচরণ এবং দৃষ্টিকোণ অনেক সুন্দর এবং ভালো থাকে। আমি নিজে একটা জিনিস অনুভব করতাম, কোন টিচার যদি আমাকে দেখলে আমার নাম ধরে দেকে যে কোন খোঁজ খবর জিজ্ঞেস করতে তখন আমার ওই টিচারের প্রতি সম্মান এবং ভালোবাসা দুইটাই বেড়ে যেত। আর সাথে বাড়ত ওনার বিষয়ের উপর বিশেষ মনযোগ। কারণ ওনার বিষয়ে পারদর্শী হতে না পারলে আমি আমার অবস্থানটা তার কাছ থেকে হারাবার একটা ভয় থেকে যায়। তাই আমাদের সমাজে ভালো ছাত্রছাত্রীদের প্রতি এরকম বন্ধুসুলভ দৃষ্টিকোণ থাকেই। তবে হ্যাঁ এক্ষেত্রে মাঝে মাঝে একটু সমস্যা থাকে। স্কুলে থাকতে যদি কোন টিচার ভালো ছাত্রছাত্রীদের দোহাই দিয়ে ও সব পারে/ পারবে বলে তার প্রতি আর কোন খেয়াল না রাখে তবে সে খেত্রেও সমস্যা আছে। তখন দেখা যাবে স্কুলে ভালোভাবে পার হয়ে গেলো পরের ধাপে ওইভাবে পার নাও হতে পারে। এ গেলো ১ম ভাগের ছাত্রছাত্রীদের প্রতি টিচারের আচরণ।
 
এবার আসি ২য় ভাগের ছাত্রছাত্রী। এদেরকে টিচারদের মনোভাব বরাবরি একি থাকে। আর টিচাররা এদেরকে সবার আগে মার্ক করতে পারেন। মার্ক করতে পারাটা একটা ভালো দিক। কিন্তু সমস্যাটা হয় তখনি যখন তারা যে ৩য় ভাগের ছাত্রছাত্রী আর সে জন্য তাদেরকে দিয়ে ভালো কিছু আশা করা যাবে না এ চিন্তা ভাবনাটা টিচারদের মধ্যে কাজ করে যখন। আমাদের টিচাররা সবসময় তাদেরকে ওই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখে যে তারা খারাপ ছাত্র এবং তারা কিছু পড়লেও কি না পড়লেও বা কি হবে। কিন্তু তাদের যে মেধার বিকাশ যথাযথ ভাবে হয় নাই, তাদের যে একটু অতিরিক্ত যত্নের দরকার, তাদের মেধার বিকাশের একটা আলাদা পরিবেশ দরকার হয় তা খুব একটা কেও চিন্তা করে না বলে আমার ধারণা। যার ফলে এই ৩য় ভাগের ছাত্রছাত্রীরা সবসময় ৩য় ভাগেই পড়ে থাকে। এদের আর উন্নতি হয় না। তবে হ্যাঁ, হয়ত ভালো পরিবেশ পেলে কিংবা ভালো সুযোগ পেলে তারাও হয়ত ভালো কিছু করতে পারবে আমার ধারণা এবং বিশ্বাস।
 
এবার আসি ৩য় ভাগ বা ৩য় শ্রেণী। এরা আমার মতে সবচাইতে অবহেলিত। আমি আগেও বলেছি এরা সবসময় নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এরা নিজে থেকে কিছু বলে না , বলার চেষ্টাও করে না। এদের অবস্থা এমন, ভালো এবং খারাপের মাঝে পড়ে এরা দিন দিন টিচারদের থেকে দূরে সরে যায়। তাছাড়া টিচাররাও তাদেরকে চিনার খুব একটা চেষ্টাও করে না। কিন্তু যা করে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়। এদের মেধার বিকাশের যথেষ্ট সুযোগ থাকে, কিন্তু এদের নিজেদের লুকিয়ে রাখার মনভাবের জন্য কিছুই করতে পারে না। আমাদের টিচারদের উচিৎ এদেরকে খুঁজে বের করা এবং এদেরকে মেধার প্রকাশের সুযোগ করে দেয়া। কিন্তু আবারো একি প্রশ্ন এসে যায় আরেকজনের ছেলেমেয়ে নিয়ে চিন্তা করে আমার কি লাভ?
যাই হক আর বেশী কিছু বলার নাই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই সংস্কৃতিটা চলে আসছে এবং চলতে থাকবে। কারণ শিক্ষকদের মধ্যে ওই মনমানসিকতা না আসবে যে উনি সমাজ গড়ার দায়িত্ব নিছেন , একটা উন্নত জাতি তার মাধ্যমেই হবে ততদিন পর্যন্ত এ মেধা বৈষম্য চলতে থাকবে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় শিক্ষকদের ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। আমরা কবে একটা উন্নত জাতি পাবো এ আসায় বসে না থেকে কিভাবে জাতিকে উন্নত করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে। তবেই আমাদের দেশ মেধার কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা পাবে।

Wednesday, 19 December 2012

গুগল ম্যাপে আপনার ঠিকানা যোগ [ফটোকপি]

বিশ্বের উন্নত দেশ এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের গুগল ম্যাপ দেখলেও মনের ভেতর হাহাকার খেলে যায়।
কতসুন্দর ওদের ম্যাপ! সবাই মিলে কাজ করে কত নিখুঁত ডিটেইলস দিয়েছে ম্যাপে। এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি অনেক। প্রধান সমস্যা সম্ভবত বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্পিড। ভাষার মাসে চলুন দেশের জন্য কিছু করা যাক।
 
গুগল ম্যাপ কেন এডিট করব?
দেশকে ডিজিটাল বানাতে ডিজিটাল মানচিত্র প্রয়োজন। ধরুন আপনি ভ্রমণে বেড়িয়েছেন, সেসময় আপনার মুঠোফোনটি যদি বলে দিতে থাকে রাস্তার পাশে কোথায় শপিং মল রয়েছে, কোথায় পাবেন এটিএম বুথ তাহলে ভ্রমণটা কত সহজ আর আনন্দদায়ক হবে ভাবতে পারেন? এজন্য প্রথমে দরকার নিখুত একটি ডিজিটাল ম্যাপ। আর তাই আপনি অবদান রাখবেন বাংলাদেশের ডিজিটাল ম্যাপিং এ।
 
আমি নতুন, কিভাবে ম্যাপিং শুরু করব?
খুব সোজা! আপনার জন্য রয়েছে বাংলা টিউটোরিয়াল!  এই সাইট থেকে বাংলায় টিউটোরিয়াল পড়ে ১০ মিনিটেই হয়ে যাবেন দক্ষ ম্যাপার! এরপর আপনার বাসার আশে-পাশের রাস্তার ম্যাপিং করে তাক লাগিয়ে দিন সবাইকে!
 
আমার এডিট প্রকাশিত না হয়ে পেন্ডিং হচ্ছে কেন?
প্রথম প্রথম কয়েকদিন ম্যাপারদের নজরে রাখে গুগল। তাই  এডিট প্রকাশ পেতে সময় লাগে। গোটা কয়েক এডিট প্রকাশ পেলেই আর কারো ধার ধারতে হবেনা, অটোমেটিক পাবলিশড হতে থাকবে আপনার এডিট।
আমার কিছু পেন্ডিং এডিট আছে কিভাবে অ্যাপ্রুভ করে নেব?
সুখবর হল গুগল বাংলাদেশ থেকে কয়েকজনকে মডারেটর বানিয়েছে যাদের বলা হয় রিজিওনাল এক্সপার্ট রিভিউয়ার (RER). এই RER গণ অত্যন্ত আন্তরিক এবং হেল্পফুল। তারা ফোরাম খুলে রেখেছেন সবাইকে সহায়তা এবং এডিট অ্যাপ্রুভ করে দেবার জন্য। বাংলাদেশী ম্যাপারসদের ফোরামে যোগ দিতে ক্লিক করুন এখানে
 
 
নিচের মত পেজ আসবে। ডানদিক থেকে Join This Group এ কিক করবেন।
 
 
 
 
আমি কি আমার গ্রামের ঠিকানা যোগ করে দিতে পারব ?
 
উত্তর হ্যা, অবশ্যই পারবেন আর এজন্যে আপনাকে গুগল ম্যাপ এডিট করা শিখতে হবে   যা খুবই সহজ কাজ....
চাইলে এই পোষ্টটি পরে ফেলতে পারেন
 
আর না পারলে  আপনার ঠিকানা যোগ করে দিতে আমরা প্রস্তুত, এর জন্যে আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে
এবং এই ফরমটি পুরন করতে হবে
 
*প্রতিটি ঠিকানার জন্যে আলাদা ভাবে তথ্য সাবমিট করবেন
*দয়া করে শুদ্ধ বানান এ তথ্য লেখার চেষ্টা করবেন
*আপনার ঠিকানা সম্পর্কিত একটি ছবির লিঙ্ক দেওয়ার চেষ্টা করবেন
*ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা হলে  ফোন নম্বার ইমেইল ঠিকানা, ওয়েব সাইট দিতে পারেন
আপনিও অংশ গ্রহন করতে পারেন সেচ্ছাসেবী হিসেবে!
আপনাকে আমন্ত্রন রইল এই কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করে দেশের জন্যে সামান্য অবদান রাখার, যেহেতু সারা বাংলাদেশ আমাদের কার্যক্রম এর আওতায় আছে তাই আমাদের একার পক্ষে সকল ঠিকানা গুগল ম্যাপে যোগ করা একটু কষ্টকর হয়ে যাবে, তাই আপনার এলাকা থেকে যে ঠিকানা গুলোর অনুরোধ আসবে সেই ঠিকানা গুলোর দায়িত্ব আপনাদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হবে
যোগাযোগ করার জন্যে মেইল পাঠান এই ঠিকানায়ঃ  answersbd.com@gmail.com
অথবা ফেইসবুকে এই ইভেন্টে যোগদান করে প্রচারনা ও উতসাহ এবং পরামর্শ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন
 
**সেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ গ্রহন করতে চাইলে অবশ্যই পুর্বে গুগল ম্যাপ এডিট করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
এই কার্যক্রম কয়েক মাস ধরে চলবে এজন্যে যারা গুগল ম্যাপ এডিট করতে জানেন না তারা সময় করে শিখে নিতে পারেন  এবং আমদের কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভবিষ্যতে অংশ গ্রহন করতে পারেন।

Tuesday, 18 December 2012

মেধার কুদৃষ্টিঃ ২য় অংশ

আমি এই শিরোনামে আমার প্রথম অংশে যা লিখেছি তা আর না লিখালাম। আপনি চাইলে আমার আগের পোস্ট থেকে তা জানতে পারবেন।  

আমাদের বয়স বাড়ার সাথে আমাদের মস্তিষ্কের আকারো বাড়তে থাকে । সেই সাথে আমাদের মেধার বিকাশ। তাছাড়া আমরা অনেক কিছু কিছু দেখতে দেখতে অনেক অভিজ্ঞতাও অর্জন করি। তবে তখন মেধার বিকাশটা বেশিই হয়। যার ফলে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ৭-৮ বছরের আগের জিনিসগুলো আমাদের কাছে অনেক সোজা মনে হয়। আর এজন্যই আমরা যারা কর্মক্ষেত্রে সফল হই না তারা তাদের বাকি জীবনটা আফসোস করি আর বলতে থাকি “আমিও চাইলে পারতাম”। এই কথাতাই বলতে বলতে মাথা ঠুকতে ঠুকতে কারো কারো দিন পার হয় “ওই সময়টাতে কেন যে ঠিক মত কাজগুলো করি নাই”। এ ব্যাপারটা সকল ক্ষেত্রেই ঘটে। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘটে এ ধরণের আফসোসের বন্যা। কিন্তু একটা কথা কি ভেবে দেখেছেন আমাদের কাছে এখন যেটা সহজ মনে হচ্ছে ৭-৮ বছর আগে কেন তা লাগে নি। কারণ তখন না লাগাতাই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন আপনাকে সাহায্য করতে পারত। তিনি হলেন আপনার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। তিনি যদি তখন আপনার মেধার বিকাশের সঠিক সুযোগটা করে দিতে পারতেন হয়ত আজ আপনাকে আমাকে আর আফসোস করতে হত না। কারণ শিক্ষকরাই পারে ছাত্রের সঠিক মেধার বিকাশ ঘটাতে। আমরা মনে করি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক নাই, কিন্তু আমি বলব আমাদের শিক্ষক ব্যবস্থা ঠিক নাই। এ কাজটা আগে ঠিক করতে হবে। কয়জনি বা ছাত্রদের সাথে পুরোপুরি মিশতে পারে তাদের বন্ধুর মত। কয়জন শিক্ষক আছেন যারা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন । অথচ তারা মানুষ গড়ার দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন। শিক্ষতায় অংশগ্রহণ করা আর অন্য সব চাকরীতে যুক্ত হওয়া কিন্তু এক কথা নয়। এ কথাটা কয়জন শিক্ষক জানে কিংবা বিশ্বাস করে? আমরা ছোট বেলা থেকে জেনে আসছি “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড ” এবং “যে জাতি শিক্ষায় যত উন্নত সে জাতি , জাতি হিসেবে তত বেশি উন্নত” । কিন্তু আমরা কি কখন ভেবে দেখি জাতির উন্নতির মেরুদণ্ড শক্ত করার দায়িত্ব যার হাতে উনার কি সেই দিকে কোন খেয়াল আছে কিনা।

ছাত্রছাত্রীরা কখনই নিজের ভুল ধরতে পারবে না, কারণ তারা তখন অন্যের ভুল ধরা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদেরকে হাজার চেষ্টা করেও তাদের ভুল ধরিয়ে দেয়ার সম্ভব না। তবে হ্যাঁ একটা নির্দিষ্ট সিস্টেমে আগালে হয়ত তাদের মাঝে তাদের ভুলের গতিধারা গুলো দেখিয়ে দেয়া সম্ভব। আমরা আমাদের কাছের মানুষ থেকে যেমন বেশি কষ্ট পাই, ঠিক তেমনি কাছের মানুষ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারি বেশি। আর সবাই এক কথায় স্বীকার করবে তার কাছের মানুষ তার বন্ধুরা এবং তার মনের মানুষ। তবে আমি এ কথাও মানি যে কিছু কিছু ছাড়া মনের মানুষের চাইতে মানুষ তার বন্ধুদের সঙ্গই বেশী পছন্দ করে। তাই বেশিরভাগের কথা চিন্তা করে শিক্ষকদের ছাত্রছাত্রীদের সাথে বন্ধু সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিৎ। এখন কথা হল কয়জন শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এমন করে চিন্তা করে ? কার এতো ঠেকা পড়ছে যে আরেকজনের ছেলেমেয়ে নিয়ে এতো চিন্তা করা। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য , জাতির উন্নতির জন্য শিক্ষকদের অবশ্যই এসব নিয়ে ভাবতে হবে । কিভাবে ছাত্রছাত্রীদের আরও কাছে যাওয়া যাবে? কিভাবে তাদের বন্ধু হওয়া যাবে? কিভাবে তাদের মনের কথা জানা যাবে? কিভাবে পড়ালে সেটা তাদের মনে গেথে যাবে? কিভাবে পড়ালে তাদের শিখতে সুবিধা হবে? কি পড়ালে তাদের বাস্তব জীবনেও টা কাজে লাগবে? এসকল কিছুই শিক্ষকদের ভাবা উচিৎ। এ ছাড়াও আমরা আরেকটা সমস্যায় ভুগছি এবং তা হল বৈষম্য।

চলবে...

মেধার কুদৃষ্টি

যতই সময় যাচ্ছে ততই পরিবর্তন হচ্ছে। পরিবর্তন হচ্ছে আমাদের মানসিক, শারীরিক এবং সেই সাথে মেধার। মানসিক এবং শারীরিক পরিবর্তন আমরা খেয়াল করি এবং করতে পারি, কিন্তু মেধার পরিবর্তন আমরা খুব একটা খেয়াল করিনা। একটু ভেবে দেখলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমরা যখন একটা নির্দিষ্ট সময় পার হই তখন আমরা আমদের ৭-৮ বছরের ছোট কাওকে কিছু করতে দিলে সে তখন না পারলে আমরা মনে মনে এই ভেবে বিরক্ত হই যে এই সোজা কাজটা না পারার কি আছে? একটু উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার ভাবে বুঝানো যায়। ধরুন আপনি ইন্টারমিডিয়েট লেবেলের একজন শিক্ষার্থী। আপনি প্রাইমারী লেবেলের কোন ছাত্র কিংবা ছাত্রীকে কোন কিছু শিখতে দিলে দেখবেন সে তা সম্পূর্ণ করতে অনেক সময় নিবে। সময় টা নির্ভর করবে যা শিখতে দেয়া হয়েছে তার বিষয় বস্তুর উপর। কিন্তু তার যতই সময় লাগুগ না কেনো, আপনার থেকে সেটা সম্পূর্ণ করতে তেমন কোন ব্যাপারই মনে হবে না। তখন হয়ত দেখা যাবে ওই শিক্ষার্থীর শিখতে যদি বেশি সময় লাগে আপনি হয়ত বিরক্ত হয়ে বলেও দিতে পারেন, “এই সামান্য জিনিসটা শিখতে এতো সময় লাগে ?” এখানে তার শিখার সময়টা যেমন নির্ভর করে কি শিখতে দেয়া হয়েছে তার বিষয় বস্তুর উপর, ঠিক তেমনি আপনার বিরক্ত হওয়ার সময়ও নির্ভর করবে আপনার মন মানসিকতার উপর।


এখন প্রশ্ন হল আমরা কি কখনো নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখেছি বয়সের পার্থক্যে আমাদের মেধার এই অসামঞ্জস্যতা কেন? হয়ত বেশীরভাগই বলবেন আমিতো তা আগেই পরেছি এবং শিখেছি। একটু ভেবে বলুন তো আপনি ৭-৮ বছর আগে শিখেছেন এমন কোন জিনিস কি এখনও মনে আছে, আর আপনার ওই সময়টাতে শিখতে কি কোন সময় লাগে নি? নাকি আপনি বিষয়টা একবার পড়ে জানার সাথে সাথেই শিখে ফেলেছেন?

না, আমরা কেওই একবারেই কোন কিছু শিখতে পারি না। মেধার সাথে আরো একটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা হল অধ্যাবসায়। আমি আমার লেখায় এই জিনিসটার ব্যাপারে তেমন কিছুই আলোচনা করব না কারণ আমার উদ্দেশ্য ভিন্ন। আমার উদ্দেশ্য হল আমি যে প্রশ্নটা তুলে ধরেছি তার উত্তর খুঁজে বের করা। এবং সেই উত্তরের আলোকে কেনো এমনটা হয় তার একটা সমাধান খোঁজা।

চলবে...


Monday, 17 December 2012

আমার নিজের কিছু কথাঃ ২য় অংশ

আমি স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে থাকা কালে দিবা শাখার কিছু শিক্ষকের ব্যাপারে আলোচনা করতে চাই। যখন কলেজে উঠি তখন রসায়ন বই ঘেঁটে বুঝলাম স্কুলে রসায়নের 'র' ও নাই। এর পর রসায়নের 'র' বুঝার পর মনে পড়ল স্কুলে থাকতে রসায়নের 'র' এর ফোঁটাও শিখি নাই এবং 'র' এর ফোঁটার আকারও বুঝি নাই। স্কুলে থাকতে নবম এবং দশম শ্রেণীতে আমি শুধু শিখেছি যোজনী এবং অম্ল ও ক্ষার আর ক্ষারক। তাও যোজনীর ভুল সংজ্ঞাটাই শিখানো হইছে। কলেজে উঠে জানতে পারলাম যোজনীর কোন ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক মান নাই যা আমাদের স্কুলে তথা কথিত শিক্ষক শিখিয়েছেন। আমি জানি না প্রভাতী শাখার ছাত্রীদের এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা কি? কারণ প্রভাতী এবং দিবা শাখার শিক্ষক ভিন্ন ছিল। যাই হোক , শুধু একটাই পাওয়া আমি একজন বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলাম। এরপর ইংরেজির কথায় আসি। আমি স্বীকার করি আমার স্কুলে ইংরেজির অনেক ভালো মানের শিক্ষক ছিল। কিন্তু এখন বুঝতে পারি শুধূ পড়াতে পারলে হয় না , পড়ানোর নিয়ম কানুন জানতে হয়। কি ভাবে পড়ালে একজন ছাত্র তার জ্ঞান কে কাজে লাগাতে পারবে সেটা মনে হয় অনেকে জানেন না। আমি আমাদের প্রধান শিক্ষক হারুন সারের দুইটা ক্লাস পাইছিলাম। ওনার নামে অনেকের অনেক অভিযোগ ছিল এটা যেমন ঠিক, তেমনি আমি আজ জোর গলায় বলতে পারি উনি পড়ানোর নিয়মটা ভালো করেই জানতেন। কারণ ওনার ওই দুইটা ক্লাসে যা পরেছি তা আমার এখনো মনে আছে। গনিতের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নাই, কারণ গনিত কে আমরা অনেক গুরুত্ব দেই বিধায় আমি নিজেই সুদক্ষ সারদের থেকে আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছি। আমি শিখার ব্যাপারে আমার নিজের কোন দোষ নাই এটা কখনই বলব না, বলছিও না। তবে শিখার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা যাদের কাজ তাদের ব্যাপারে এখন কিছু বললেও তাদের তেমন কিছুই যায় আসে না , আসবেও না। আমারা এমন অনেক ক্লাস করেছি যেখানে টিচার এসে বসে বসে পান চিবুইছেন আর আমরা গল্প করে ঘণ্টা কাটাইছি। ওই সময়টাতে ওই ক্লাসগুল ছিল সেরা ক্লাস। আর এখন বুঝি টিচাররা আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের এখনো টিচার দাবী করে সমাজে একটা ভালো অবস্থানে আছেন। আমি এখনো বলি আমার স্কুলে এখনো অনেক টিচার আছেন যাদেরকে স্কুল করতিপক্ষ শুধু শুধুই লালন পালন করছেন। সবশেষে আমি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী দের নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এই ভেবে যে তারা আমাকে আচার ব্যাবহারটা ভালো মত শিখিয়েছেন।।

Saturday, 15 December 2012

আমার নিজের কিছু কথাঃ ১ম অংশ

আমি স্কুলে থাকতে ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকতাম। কখনই স্কুল ফাকি দেয়ার কথা চিন্তা করতাম না। শুধু আমি না , আর সব বন্ধুরাও একি ভাবে নিয়মিত ক্লাস করতো। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্যি যে আমাদের ক্লাসে সঠিক শিক্ষা দেবার মত হাতে গোণা কয়েকজন ছাড়া তেমন কোন শিক্ষক/শিক্ষিকা ছিলেন না, যা অবশ্য পরে অনুধাবন করি। যাই হোক এ থেকে বুঝলাম পড়া লেখার উদ্দেশে স্কুলে যাওয়া হত না। তবে কি সার/ম্যাডাম দের বেত্রাঘাতের ভয়ে? হতেও পারে, অস্বাভাবিক কিছুই নয়। এর পর কলেজ এ যখন উঠি তখন ফার্স্ট ইয়ারে যা একটু উপস্থিতি ছিল, কিন্তু সেকেন্ড ইয়ারে তো তার অর্ধেক ও ছিল না আমার উপস্থিতি। কিন্তু সেখানে তো অনেক ভালো ভালো শিক্ষক রাই ক্লাস নেন এবং অনেক কিছুই জানার ছিল তাদের কাছে!
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন উঠলাম, তখন দেখি আরেক চিত্র। এখানে তো দেখি আমার উপস্থিতির হার কলেজের চাইতেও আরও কম এবং তা যতই দিন যায় তা শুধুই কমতেই থাকে।
তবে হ্যাঁ। এখন আমি জানি কেন নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকতাম। আজ আমি যখন আমার স্কুল বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই তখন আমি এই উত্তরটা পাই। আমরা যখন স্কুল জীবনের কথা শুরু করি তখন আমাদের যেন সময় আর শেষ হয় না। কোন সারের ক্লাসে কি রকম মজা করছি, কোন সার কে কেমন বিরক্ত করছি, কোন সারের মাইরটা বেশি মজার আছিল, কোন ঘটনাটা এখনও মনে পড়লে হাসতে হাসতে পেতে খিল লেগে যায়, কোন মেয়ের সাথে............ ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার এখনও মনে পরে আমরা একি গল্প বার বার করে এখনও মজা পাই। এসব দেখে আমি এটাও বলে দিতে পারি শুধু আমি নই, আমার মত সকলেই এখনও স্কুল জীবনটাকে এখনও মিস করে। আর এ জন্যই আমার এবং আমাদের সবার স্কুলে ১০০% উপস্থিতি ছিল।

Friday, 23 November 2012

GAZA একটি বড় ভুল

শুধুই প্রতিবাদ ছিল না, এটা একটা মস্ত বড় ভুল ছিল। কেন যে সন্ত্রাসীরা নিরীহ ও শান্তি প্রিয় ইসরাইল এর শান্তির বার্তার প্রতিবাদ করতে গেলো? ফলাফল GAZA র আজ এই দুর্গতি। আল্লাহ GAZA কে রহমত নাজিল করুক যাতে তারা আর কখন নিরীহ ইসরাইল কে ভুল না বুঝে তাদের শান্তির বার্তাকে অপমানিত না করে। আমিন

Friday, 2 November 2012

সূচনা

আমার অনেক দিনের সখ নিজের একটি ব্লগ হবে। যেখানে মানুষের না বলতে পারার কথা গুলো তুলে ধরা যাবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের সাধারণ কিছু সমস্যা বলা যাবে। এমন সব সমস্যা যা কিনা আমরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারি না যে এটা আমাদের একটা সমস্যা। বাস্তবে আমাদের আসে পাশে এমন অনেক ঘটনা আছে যা আমরা স্বাভাবিক ঘটনা ভেবে এ থেকে সৃষ্ট সমস্যা কে তেমন একটা পাত্তা দেই না, কিন্তু এমন সমস্যা গুলো আমাদের সমাজকে দিন দিন গ্রাস করছে আর আমাদের ঠেলে দিচ্ছে এক কঠিন বাস্তব মুখি সমস্যা যুক্ত সমাজে যেখান থেকে আর ফিরে আশা যাই না। আমার এই ব্লগ এ আমি এ ধরনের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো, এর থেকে বের হবার উপায় কি তা তুলে ধরবো। এটা আমার এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ বলা যায়। আশা করি আপনি আমাকে ভুল বুঝবেন না। কারণ কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য আমার মন থেকে নেই এবং থাকবে না।
 

[oralism শব্দের অর্থ the system of teaching deaf people to communicate using speech and lips-reading]