Social Icons

Tuesday, 18 December 2012

মেধার কুদৃষ্টিঃ ২য় অংশ

আমি এই শিরোনামে আমার প্রথম অংশে যা লিখেছি তা আর না লিখালাম। আপনি চাইলে আমার আগের পোস্ট থেকে তা জানতে পারবেন।  

আমাদের বয়স বাড়ার সাথে আমাদের মস্তিষ্কের আকারো বাড়তে থাকে । সেই সাথে আমাদের মেধার বিকাশ। তাছাড়া আমরা অনেক কিছু কিছু দেখতে দেখতে অনেক অভিজ্ঞতাও অর্জন করি। তবে তখন মেধার বিকাশটা বেশিই হয়। যার ফলে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ৭-৮ বছরের আগের জিনিসগুলো আমাদের কাছে অনেক সোজা মনে হয়। আর এজন্যই আমরা যারা কর্মক্ষেত্রে সফল হই না তারা তাদের বাকি জীবনটা আফসোস করি আর বলতে থাকি “আমিও চাইলে পারতাম”। এই কথাতাই বলতে বলতে মাথা ঠুকতে ঠুকতে কারো কারো দিন পার হয় “ওই সময়টাতে কেন যে ঠিক মত কাজগুলো করি নাই”। এ ব্যাপারটা সকল ক্ষেত্রেই ঘটে। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘটে এ ধরণের আফসোসের বন্যা। কিন্তু একটা কথা কি ভেবে দেখেছেন আমাদের কাছে এখন যেটা সহজ মনে হচ্ছে ৭-৮ বছর আগে কেন তা লাগে নি। কারণ তখন না লাগাতাই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন আপনাকে সাহায্য করতে পারত। তিনি হলেন আপনার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। তিনি যদি তখন আপনার মেধার বিকাশের সঠিক সুযোগটা করে দিতে পারতেন হয়ত আজ আপনাকে আমাকে আর আফসোস করতে হত না। কারণ শিক্ষকরাই পারে ছাত্রের সঠিক মেধার বিকাশ ঘটাতে। আমরা মনে করি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক নাই, কিন্তু আমি বলব আমাদের শিক্ষক ব্যবস্থা ঠিক নাই। এ কাজটা আগে ঠিক করতে হবে। কয়জনি বা ছাত্রদের সাথে পুরোপুরি মিশতে পারে তাদের বন্ধুর মত। কয়জন শিক্ষক আছেন যারা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন । অথচ তারা মানুষ গড়ার দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন। শিক্ষতায় অংশগ্রহণ করা আর অন্য সব চাকরীতে যুক্ত হওয়া কিন্তু এক কথা নয়। এ কথাটা কয়জন শিক্ষক জানে কিংবা বিশ্বাস করে? আমরা ছোট বেলা থেকে জেনে আসছি “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড ” এবং “যে জাতি শিক্ষায় যত উন্নত সে জাতি , জাতি হিসেবে তত বেশি উন্নত” । কিন্তু আমরা কি কখন ভেবে দেখি জাতির উন্নতির মেরুদণ্ড শক্ত করার দায়িত্ব যার হাতে উনার কি সেই দিকে কোন খেয়াল আছে কিনা।

ছাত্রছাত্রীরা কখনই নিজের ভুল ধরতে পারবে না, কারণ তারা তখন অন্যের ভুল ধরা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদেরকে হাজার চেষ্টা করেও তাদের ভুল ধরিয়ে দেয়ার সম্ভব না। তবে হ্যাঁ একটা নির্দিষ্ট সিস্টেমে আগালে হয়ত তাদের মাঝে তাদের ভুলের গতিধারা গুলো দেখিয়ে দেয়া সম্ভব। আমরা আমাদের কাছের মানুষ থেকে যেমন বেশি কষ্ট পাই, ঠিক তেমনি কাছের মানুষ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারি বেশি। আর সবাই এক কথায় স্বীকার করবে তার কাছের মানুষ তার বন্ধুরা এবং তার মনের মানুষ। তবে আমি এ কথাও মানি যে কিছু কিছু ছাড়া মনের মানুষের চাইতে মানুষ তার বন্ধুদের সঙ্গই বেশী পছন্দ করে। তাই বেশিরভাগের কথা চিন্তা করে শিক্ষকদের ছাত্রছাত্রীদের সাথে বন্ধু সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিৎ। এখন কথা হল কয়জন শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এমন করে চিন্তা করে ? কার এতো ঠেকা পড়ছে যে আরেকজনের ছেলেমেয়ে নিয়ে এতো চিন্তা করা। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য , জাতির উন্নতির জন্য শিক্ষকদের অবশ্যই এসব নিয়ে ভাবতে হবে । কিভাবে ছাত্রছাত্রীদের আরও কাছে যাওয়া যাবে? কিভাবে তাদের বন্ধু হওয়া যাবে? কিভাবে তাদের মনের কথা জানা যাবে? কিভাবে পড়ালে সেটা তাদের মনে গেথে যাবে? কিভাবে পড়ালে তাদের শিখতে সুবিধা হবে? কি পড়ালে তাদের বাস্তব জীবনেও টা কাজে লাগবে? এসকল কিছুই শিক্ষকদের ভাবা উচিৎ। এ ছাড়াও আমরা আরেকটা সমস্যায় ভুগছি এবং তা হল বৈষম্য।

চলবে...

No comments:

Post a Comment

মানুষ বেঁচে থাকে তার স্বপ্নে, তার লক্ষই থাকে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। সে জন্য সে হারে জিতে , আবার অতি মাত্রায়ে উল্লাসিত কিংবা দুঃখিত হয়।সপ্নবিহীন মানুষ রোবট সমতুল্য। জীবনের কাছে তার কোন চাওয়া পাওয়া থাকে না। তাই সপ্ন দেখা উচিৎ, বেঁচে থাকার দরকার।