বিনেদন বা শিক্ষার উদ্দেশে পরিভ্রমণ। বর্তমানে পর্যটন একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন একটি সেবাখাত এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করা বা তাদের আহার ও বাসস্থান সংস্থান, চিত্তবিনেদন ইত্যাদির একটি ভালো ব্যাবসা। অনেক দেশে পর্যটন অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় ও বিদেশী মুদ্রা উপার্জনের একটি কার্যকর শিল্পখান। পর্যটন উন্নয়নের সংগে সংগে অন্য যেসব ব্যবসায় বিকাশ লাভ করে সেগুলি হচ্ছে বিমান ও সমুদ্রপথে যাত্রী পরিবহণ, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ব্যাংকিং, ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটর কোম্পানি, গাড়ি ভাড়া প্রতিষ্ঠান ও নানারকম খুচরা পন্যের দোকান।
বাংলা সুদূর অতীত থেকেই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে আসছে। বিশ্বের নানা অংশ থেকে পর্যটকরা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বাংলা ভ্রমণ করছে। কেউ এসেছে ধর্ম প্রচারে, কেউ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে, কেউ প্রাচীন বাংলার নানা জ্ঞানপীঠ থেকে বিদ্যার সন্ধানে আবার কেউ শুধুই কৌতূহল মেটাতে। অতীত বাংলার বিভিন্ন এলাকায় আসা কয়েকজন পর্যটক হচ্ছেন গ্রিসের প্লিনি দ্য এলডার (এসেছেন তাম্রলিপ্তিতে, ১ম শতকে) মিসরের ক্লডিয়াম টলেমায়েস টলেমী (গঙ্গারিডাই বা গৌড়, ২য় শতক) চীনের ফা-হিয়েন (তাম্রলিপ্তি, ৫ম শতক) ও হিউয়েন সাং (মহাস্থান, সমতট, কর্ণসুবর্ণ ও তাম্রলিপ্তি, ৭ম শতক), মরক্কোর ইবনে বতুতা (চট্টগ্রাম ও সোনারগাঁও, ১৪শ শতক), চীনের মাহুয়ান (গৌড়, ১৫শ শতক) ও ফেই সিন (চট্টগ্রাম ও সোনারগাঁও, ১৫শ শতক), পর্তুগালের দুয়ারতে বারবোসা (গঙ্গা অববাহিকা, ১৬শ শতক), ইতালির সিজার ফ্রেডরিক (চট্টগ্রাম , ১৭ শ শতক), ইংল্যান্ডের র্যলফ ফিচ (চট্টগ্রাম ১৬শ শতক), ইতালির নিকোলা মানুচি (ঢাকা, ১৭শ শতক) এবং ফ্রান্সের টেভারনিয়ার (ঢাকা, ১৭শ শতক)।
পর্যটন বর্তমানে যে অর্থে অর্থনীতির একটি বিশেষ খাত সেটি তুলনামূলকভাবে খুবই সাম্প্রতিক ধারণা। বাংলাদেশ এলাকায় এর সূত্রপাত ঘটে ১৯৬০-এর দশকে। বিদেশ থেকে পর্যটকরা এখানে আসতেন সমুদ্র সৈকতের আকর্ষণে, এদেশের শ্যামলসবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। পূর্ববাংলার নদনদী, বনভূমি, পাহাড়ী অঞ্চল, ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থান, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক জীবন সবই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে থাকে। বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় গড়ে ওঠা পৃথিবীর বৃহত্তম বনাঞ্চল রয়েছে। এখানে খোলা বনভূমিতে বিচরণ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বাংলাদেশের অবস্থান ম্যাক্রো-এশিয়াটিক এয়ার ট্রাফিক করিডোরে থাকায় বিশ্বের নানা অংশ থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আগত পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য অংশকে বাংলাদেশ ভ্রমণে আকৃষ্ট করা তুলনামূলক ভাবে সহজ।
No comments:
Post a Comment
মানুষ বেঁচে থাকে তার স্বপ্নে, তার লক্ষই থাকে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। সে জন্য সে হারে জিতে , আবার অতি মাত্রায়ে উল্লাসিত কিংবা দুঃখিত হয়।সপ্নবিহীন মানুষ রোবট সমতুল্য। জীবনের কাছে তার কোন চাওয়া পাওয়া থাকে না। তাই সপ্ন দেখা উচিৎ, বেঁচে থাকার দরকার।