Social Icons

Monday, 18 February 2013

বিতর্কিত শাহবাগ



আজ সমগ্র বাংলাদেশে যে গণজাগরণের জোয়ার বইছে তা দেখে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আবহাওয়াটা ভালোই বুঝতে পারছি। রাস্তা ঘাটে বের হলেই নানা মানুষের সমালোচনা শুনেই বুঝা যায় ১৯৭১ এ অনেক মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে না বুঝেই ভুল বুঝত। আর গুটিকয়েক ধর্মনুরাগি মানুষের বক্তব্য শুনলে পরিষ্কার ভাবেই বুঝা যায় ১৯৭১ এ রাজাকারদের ভূমিকা কেমন ছিল। কারণ এই সকল ধর্মের নামে সমালোচনাকারি মানুষের সমালোচনা শুনলে ইচ্ছে করে ঘুষি মেরে মুখ থেঁতলে দেই। তাছাড়া ফেসবুক ও অন্যান্য অনেক ব্লগারদের যুক্তি তর্কতো রয়েছে। প্রজন্ম চত্বরের একটাই কথা বাংলাদেশ আর প্রজন্ম চত্বরের বিরোধিতাদের একটাই হাতিয়ার, ধর্ম। এখানে আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রজন্ম চত্বরকে ঘিরে সাধারণ মানুষগুলাকে পাঁচ ভাগে ভাগ করবো। গণজাগরণের যোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, মিডিয়া, অতি সাধারণ মানুষ এবং ধর্মান্ধ কিছু মানুষ।

গণজাগরণের যোদ্ধাঃ এদের ব্যাপারে কিছুই বলার নাই। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে ঝাপিয়ে পড়েছে এবং তাদের সাহসের যোগানদান কীভাবে হয় তা আমরা আজ প্রজন্ম চত্বরের এই সমাবেশ থেকেই বুঝতে পারি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের খুশি হওয়া উচিত এই ভেবে যে, যে দেশে এমন নির্ভীক যোদ্ধা আছে সে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা চিন্তা না করলেও চলবে।

রাজনীতিবিদঃ এখনকার অবস্থায় রাজনীতিবিদরা খুব চাপের মুখে আছে। কেউ প্রজন্ম চত্বরকে নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে, কেউ কেউ করছে, কেউ কেউ কি করলে তাদের দলের জন্য ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে সে চিন্তা করছে আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ফল ভোগ করার জন্য আবোল তাবোল বলে মানুষের হাসির পাত্র হচ্ছে। তবে এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে আওয়ামীলীগ এ সমাবেশের ভালো একটা সুফল পাচ্ছে। কারণ এখন সরকারের শেষ বছর এবং বিগত চার বছরের সকল ব্যর্থতা এই গণজাগরণের কারণে ধামাচাপা খাচ্ছে। আর তাছাড়া প্রজন্ম চত্বরের সকল দাবি-ই আওয়ামীলীগের অনুকূলে হওয়াতে , একটা কথা বলতে বাধ্যই হচ্ছি এ সময়টা আওয়ামীলীগের জন্য স্বর্ণ যুগ যাচ্ছে। বিএনপি এখন খুবি চাপের মুখে আছে এবং তার একমাত্র কারণ জামায়তে ইসলামি। তাদের রাজনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো না হওয়ায় এ দলটি জামায়তে ইসলামির লেজ ছাড়তে পারছে না। আর শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের দাবি সমূহ জামায়তে ইসলামির বিরুদ্ধে হওয়ায় বিএনপি প্রথমে কি করবে কি না করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। তবে আমার একটা কথা, এ সকল রাজনীতিবিদরা কি বুঝে না মানুষ আজ কতটা সচেতন? তাদের কথা বার্তা শুনলে মনে হয় তাদেরকে একটা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নামানো হইছে, আর এ প্রতিযোগিতায় কে কার বিরুদ্ধে কত বেশি উল্টা পাল্টা কথা বলে মানুষকে কত বেশি হাসাতে পারবে সে জয়ী হবে! তাদের এই সনাতন পদ্ধতির রাজনীতি কবে যে বন্ধ হবে !

মিডিয়া এবং অতি সাধারণ মানুষঃ এই প্রজন্ম চত্বর কে নিয়ে মিডিয়াগুলো এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। যা ৭১ এর যোদ্ধারা খুব একটা পায় নাই। এ জন্য মিডিয়ার কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিডিয়াগুলার একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। এখন টেলিভিশন চালু করলেই একটাই পর্দা ভেসে উঠে আর তা হল শাহবাগ। আমাদের দেশে অতি সাধারণ মানুষের সংখ্যাই কিন্তু বেশি। এবং এ সকল অতি সাধারণ মানুষ যদি টিভির পর্দায় প্রতিদিন দেখে, আপনি এই প্রজন্ম চত্বরে কেন আসছেন? আপনি শাহবাগে কি দাবি নিয়ে আসছেন? আপনি কখন আসছেন? আপনি কখন যাবেন? এই টাইপের প্রশ্নগুলো যদি প্রতিনিয়ত দেখতে থাকে তাহলে তো মানুষ এটাকে একটা লোক দেখানো সমাবশি ভাববে। এবং এর ফলে নতুনদের এই গণজাগরণের ভাবমূর্তি অতিসাধারণ মানুষের নিকট কিছুটা হলেও ক্ষীণ হবেই। আমার জানা মতে সমগ্র বাংলাদেশেই গণজাগরণ হচ্ছে। আপনারা সমগ্র বাংলাদেশের এই গণজাগরণটাকে শাহবাগের সাথে সাথে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরতে পারেন। কারণ অতি সাধারণ মানুষ এত কিছু বিশধ ভাবে চিন্তা করে না। তারা সামনে যা দেখে তাই বাস্তবতা মনে করে। কেন হইছে, কি কারণে হইছে তাদের এসব ভাবার সময় নাই।

ধর্মান্ধ কিছু মানুষঃ বাংলাদেশে বেশির মানুষ একটা ব্যাপারে সব সময়ই একটু বেশি স্পর্শকাতর। আর তা হল ধর্ম। মানুষের এই ধর্মান্ধতার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থপর মানুষ নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে আসছে। এবং আমি মনে করি আজকে তারা তাদের উদ্দেশ্য সফলতার সাথে সম্পূর্ণ করে আসছে। তা না হলে আজ যুদ্ধঅপরাধী নিয়ে যে এত বড় গণজাগরণ, তাতে বিরোধিতা করার সাহস পায় কোথা থেকে। ধর্মান্ধ মানুষগুলোর অজ্ঞতার কারণেই আজ শাহবাগের গণজাগরণ। আমরা নিজ দেশে থেকে এ দেশের স্বাধীনতার বিরোধীদের বিচারের দাবি করতে হচ্ছে দেশ স্বাধীনের ৪২ বছর পর। রাজনীতিবিদদের কথা আলাদা, কারণ তারা তাদের নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু যে সকল মানুষ আজ ধর্মের দোহাই দিয়ে, যুক্তি তর্কের মাধ্যমে এ সকল রাজাকারদের সাফাই গাচ্ছে তারা কি একটুও ভেবে দেখে না যে, ৭১ এ এসকল রাজাকারা এই ধর্মের দোহাই দিয়ে যুক্তি তর্কের মাধ্যমে মানুষকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বুঝাতো। এ সকল ধর্মীয় তর্কবাজরা কি একবারেও চিন্তা করে না যে, তারাও ১৯৭১ এর রাজাকারদের ভূমিকা আজ ২০১৩ সালে পালন করতাছে। এ সকল ধর্মীয় যুক্তিবাজদের যুক্তি শুনলে বা পড়লে আমি নিশ্চিত যে কোন বাঙালি তাদের সামনাসামনি পেলে নিজেকে সামলাতে পারবে না। আমি ফেসবুকে এমনও মানুষের স্ট্যাটাস পড়ছি, যাতে বলা হচ্ছে হে আল্লাহ আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও (...............রাজাকার............) এর জীবন তুমি রক্ষা কর আমরা যেন একটা গৃহ যুদ্ধের মধ্যে অবস্থান করছি। আর এ সকল কিছুর মূলে রয়েছে বাংলাদেশের স্বার্থপরায়ণ রাজনীতিবিদরা। আমি কি বুঝাইছি আসলে সকলেই তা বুঝতে পেরেছেন।

আজ এ সকল ধর্মান্ধ মানুষ এবং অতি সাধারণ মানুষের জন্য শাহবাগ বিতর্কিত একটা স্থান। শাহবাগের আন্দোলন সফল হোক । মানুষ ধর্মান্ধ হয়ে যাতে নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব না হারায় সে ব্যাপারে আমাদের সবসময় তৎপর থাকতে হবে। আর সাথে এও প্রতিহত করতে হবে, এ প্রজন্মের রাজাকাররা যাতে আমদের দেশের অতি সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে আজকের এই শাহবাগকে বিতর্কিত করতে না পারে।

Thursday, 14 February 2013

প্রজন্ম চত্বর নিয়ে একটি মন্তব্য


কিছু ছাগু প্রশ্ন এবং কেরামতি জবাবঃ

১. ইসসস...এভাবে যদি সাগর-রুনী হত্যা,পদ্মা ব্রিজ, শেয়ার কেলেঙ্কারী বিচার চাওয়ার জন্য সমাবেশ করা হতো।

না করছে কিডা?? প্রজন্ম চত্তর বাদেও তো আরো চত্তর আছে ওইখানে যাইয়া এগুলোর দাবীতে সমাবেশ করেন। আমরা আপাতত রাজাকারদের ফাসী নিয়ে ব্যস্ত কেননা তারা বুইড়া হয়ে গেছে মারা গেলে আর বিচার হবেনা। এই দাবী আদায় হইলে পরে যোগাযোগ কইরেন।
...

২. সব নাস্তিকদের চক্রান্ত। শাহবাগে সব নাস্তিকেরাই এই গনজাগরন পরিচালনা করছে।

তা নাস্তিকেরা নামায পড়ে এই প্রথম দেখলাম মনে হয়!! একটু কষ্ট করে ফজরের নামাযের ওয়াক্তে এখানে আইসেন। বর্তমানে শাহবাগে সবচেয়ে বড় ফজরের নামাযের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

৩. সবাই ফ্রি খাবার,পানি খাওয়ার জন্য শাহবাগে যায়। আর খাবার সাপ্লাই দেয় সরকারী দল আর নাস্তিকেরা।

এইখানে একটা কাহিনী বলি। গত পরশু রাত ১২টায় শাহবাগ থেকে বাসায় যাচ্ছিলাম। যাওয়ার সময় পাউরুটি কেনার জন্য এলাকার পরিচিত দোকানে গেলাম। দেখলাম দোকানদার দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন। আমি কইলাম ব্যাপার কি?

সে বললো সারাদিন দোকান চালায় দেখে শাহবাগ যেতে পারেনা। এখন দোকান বন্ধ করে যাচ্ছে। তার পাশে ৫টা বড় বড় কার্টন। কার্টনে করে সে বিস্কুট,পাউরুটি নিয়ে যাচ্ছে সেখানে আন্দোলন করা সবার জন্য। আশা করি বুঝতে পারতেছেন খাবার কিভাবে আসে এখানে?

৪. শাহবাগে ছেলেমেয়েরা একসাথে বেহায়ার মত নাচানাচি করে, সেখানে দলাদলি হয়।

ওই ফকিন্নির পোলা! জীবনে মা-বোন ছাড়া কয়টা মেয়ের সাথে কথা কইসস?? মেয়ে দেখলেই তো তোদের ক্যাড়া উঠে। রাস্তায় ভাই-বোন পাশাপাশি হাটলেও সেট দেখে তোদের নুনু খাড়ায় যায়। একবার এখানে আইসা দেইখা যা কি হয়। তারপর পকপক করিস। তোগর মেন্টালিটিই তো গোলকৃমির চেয়েও নিকৃষ্ট!

~কুবের

কৃতজ্ঞতা- Voice of 71 - ৭১ এর কন্ঠ

Tuesday, 12 February 2013

ফাঁসির দাবিতে একাত্ম কাদের মোল্লার নাতিও

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি নিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন তাঁর নাতি মনির হোসেন। একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি তাঁর নানা কাদের মোল্লার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন।
গত রবিবার রাতে সংবাদমাধ্যমটিকে মনির হোসেন বলেন, '৭১-এ কাদের মোল্লা যে জঘন্যতম কাণ্ড ঘটিয়েছে, তাতে তার ফাঁসি হওয়াই উচিত। এখন তার একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। যেকোনোভাবেই হোক মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।'
কাদের মোল্লাকে 'নানা' বলে সম্বোধন করতে ঘৃণা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'নিজের মাঝে চরম ঘৃণা কাজ করে তাকে নানা বলে ডাকতে। এমন মানুষকে রাজাকার বলেই ডাকতে হয়। তাকে হায়েনা আর জানোয়ার বলতেও আমার কোনো আপত্তি নেই।'
তিনি আরো বলেন, 'শুধু কাদের মোল্লা নয়, '৭১-এ তার সহযোগী সব যুদ্ধাপরাধীরই ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো উচিত। গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদী ও মুজাহিদের ফাঁসিও দ্রুত দেওয়া হোক। তাদের ফাঁসিতে ঝুলাতে না পারলে এ দেশ কখনোই কলঙ্কমুক্ত হবে না। এ সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধাপরাধীদের সঠিক বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করা।'

আন্দোলনে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে মনির হোসেন বলেন, 'গত পাঁচ দিন আন্দোলনে আছি। খেয়ে না খেয়ে স্লোগান আর ফাঁসির দাবি তুলে যাচ্ছি। তাদের ফাঁসির রায় না হওয়া পর্যন্ত এ মাঠ ছেড়ে যাব না।'
মনির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কবি নজরুল সরকারি কলেজে ভূগোলের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর একজন সদস্য। মনির কাদের মোল্লার চাচাতো নাতি।
সূত্র : বাংলামেইল অনলাইন।