Social Icons

Friday, 21 December 2012

যৌনতার প্রারম্ভিক কথা

যৌনতা বাঙ্গালির সংস্কৃতিতে একটি গোপনীয় বিষয়। সাধারণ সমবয়সী, সমলিঙ্গভুক্ত ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ পরিচিতিদের ছাড়া কারো সঙ্গে তা আলোচিত হয় না। এই সংস্কৃতিতে এমন কোন দিকনির্দেশনা নেই যার সাহায্যে কেউ পরিণত যৌবন, আকাঙ্ক্ষা এবং যৌনাচরন হতে উদ্ভুত সমস্যাবলীর মোকাবেলা করতে পারে। বাস্তব অভিজ্ঞতায় সে অনুভূতি সঞ্চয় করে কিছুটা পিতামহ বা পিতামহীর সহায়তায়, কিছুটা বাড়ন্ত বয়সে সঙ্গীদের সহায়তায়, আর কিছুটা চোখকান মেলে যা দেখতে পায় তা থেকে। বাংলাদেশে শিশু বা তরুণ বয়সীরা তাদের পিতামাতার সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্ণ দূরত্ব রেখে চলে যে, তাদের কাছে থেকে যৌন বিষয়ক কোন শিক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। এরূপ অভাব অবশ্য পূরণ করে দেয় রক্ত সম্পর্ক বা পাতানো কোন কোন আত্মীয়। তারা হাস্য-পরিহাসচ্ছলে আনুষ্ঠানিকভাবে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। পিতামাতা এ ধরনের আলোচনা থেকে বিরত থেকে ব্যাপারটির স্পর্শকাতরতা, তাৎপর্য এবং এ সম্পর্কে নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব আরপ করে থাকেন।
প্রাচীন ভারতবর্ষের সাহিত্যে জীবনচক্রে আশ্রম ধর্মের ভাবধারা প্রতিফলিত হয়। কার কার ধাপে অবস্থান তার ওপর নির্ভর করে তার আচরণবিধি ও ধর্ম, অর্থাৎ যথাযথ কর্ম। অন্যান্য অধিকাংশ কৃষক সমাজের মত বাংলাদেশেও জীবনের স্বীকৃত ধাপসমূহ যৌন আচরণ ও প্রজননসম্পর্কিত প্রত্যাশার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আরও বৈশিষ্ট এই যে, পুরুষের ও নারীর প্রত্যাশিত আচরণ অত্যন্ত বিপরীতমুখী। ছোটবেলা থেকেই তাদেরকে সমাজের লিঙ্গ ভিত্তিক ভূমিকা পালন করার জন্য এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, তা স্বভাবতই ভিন্ন হয়ে পড়ে। প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থাবলীতে বর্ণিত আশ্রম কাঠামোতে বিন্যস্ত জীবনসোপন মূলত শুধু পুরুষের জন্যই একটি তাত্ত্বিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে বিবেচিত হতো।
আশ্রমের প্রথম ধাপ, ব্রাহ্মাচার হচ্ছে কোন বালকের শিক্ষার প্রারম্ভকাল । আধুনিক ভারতীয় ভাষাসমূহে ব্রাহ্মাচার বলতে সংযম বোঝায়। শিশুর চিরাচরিত শিক্ষাব্যবস্থায় জীবনের কোন আনন্দ বা ভোগসুখের অবকাশ ছিল না, কারণ এগুলি ছিল কাম (প্রেম ও সৌন্দর্যতত্ত্ব ) বৈশিষ্টমূলক এবং আশ্রমের পরবর্তী ধাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট । আশ্রমের দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে গার্হস্থ, অর্থাৎ সাংসারিক দায়িত্ব পালনের স্তররূপে বিবাহ এবং বৈষয়িক বিষয়াদি এর অন্তর্ভুক্ত। গার্হস্থ পর্যায়ে কাম- এর ভূমিকা ব্যাপক। আশ্রমের তৃতীয় ধাপ বাণপ্রস্থ বাণপ্রস্থ হচ্ছে বৈষয়িক বিষয়াদি হতে অবসর গ্রহণ। এ পর্যায়ে যৌনক্রিয়া কিংবা প্রজনন সঙ্গত বিবেচিত হয় না। বাংলাদেশে পরিণত বয়সে সংযম প্রত্যাশিত, সাবালকত্বের তারুণ্যে যৌনতার প্রাচুর্য গ্রহণযোগ্য এবং নারীপুরুষ উভয় ক্ষেত্রে মধ্যবয়সে যৌনক্রিয়া, এমনকি অনাচার ও প্রত্তাশিত। সাবালক পর্যায়ে কামেচ্ছা প্রশমিত রাখতে হলেও, কামবাসনার গুরুত্ব স্বীকৃত।